-
By: Ahsan Habib
-
December 4, 2025
বাচ্চার কাশি–সর্দির ঘরোয়া উপায়
বাচ্চাদের কাশি ও সর্দি প্রায়ই দেখা যায়—বিশেষ করে মৌসুম পরিবর্তন, ঠাণ্ডা লাগা, ধুলাবালি বা ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে। বাবা–মায়েরা সাধারণত প্রথমেই ঘরোয়া উপায় খোঁজেন, কারণ এগুলো সহজ, নিরাপদ এবং বেশ কার্যকর। আজকের এই ব্লগে আমরা জানব বাচ্চার কাশি–সর্দি কমানোর কিছু কার্যকর ঘরোয়া টিপস, যেগুলো ঘরে বসেই ব্যবহার করা যায়।
১️⃣ গরম পানির ভাপ: নাক–গলা পরিষ্কার রাখতে কার্যকর
গরম পানির হালকা ভাপ বাচ্চার নাক বন্ধভাব কমাতে খুব ভালো কাজ করে। ভাপ নিলে জমে থাকা সর্দি পাতলা হয়ে সহজে বের হয়ে আসে।
কিভাবে দেবেন?
-
গরম পানির পাত্র বাচ্চার কাছাকাছি রেখে ৫–১০ মিনিট ভাপ নিন।
-
ছোট বাচ্চাদের খুব কাছে নিয়ে যাবেন না, দূরে রেখে ভাপ দেবেন।
এটি নাক বন্ধ, সর্দি, গলা খুসখুস—সব কিছুকেই আরাম দেয়।
২️⃣ মধু + গরম পানি: স্বাভাবিক কফ কমানোর সহজ উপায়
১ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চাদের জন্য মধু একটি প্রাকৃতিক কফ-রিলিভার। মধু গলা নরম রাখে, কাশি কমায় এবং রাতে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে।
কিভাবে দেবেন?
-
১ চা চামচ মধু হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে দিন।
-
দিনে ১–২ বার দিতে পারেন।
⚠️ যাদের বয়স ১ বছরের কম, তাদের কখনোই মধু দেওয়া যাবে না।
৩️⃣ গরম স্যুপ বা তরল খাবার: শরীর গরম রাখে ও কাশি কমায়
চিকেন স্যুপ, ডাল স্যুপ, ভেজিটেবল স্যুপ বা সimply গরম পানি—এগুলো বাচ্চার গলা আরাম দেয় এবং সর্দি কমায়।
এগুলো দিয়ে ডিহাইড্রেশনও কমে, যা অসুস্থ অবস্থায় খুবই দরকার।
৪️⃣ লবণ মেশানো গরম পানিতে গার্গল (বড় বাচ্চাদের জন্য)
যাদের বয়স একটু বেশি, তারা লবণ মিশানো হালকা গরম পানি দিয়ে গার্গল করতে পারে। এটি গলার ব্যথা ও কাশি দুটোই কমায়।
৫️⃣ নাক পরিষ্কার রাখা: শ্বাস সহজ হয়
কাশি–সর্দি থাকা অবস্থায় বাচ্চাদের নাক বন্ধ হয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
নর্মাল স্যালাইন ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করলে নাক সহজে পরিষ্কার থাকে।
এটি বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য খুব সহায়ক, কারণ তারা নিজে নাক পরিষ্কার করতে পারে না।
৬️⃣ ঘরের আর্দ্রতা ঠিক রাখা (Humidity Control)
ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক হলে কাশি বেড়ে যেতে পারে।
হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা আসে, যা গলা ও নাককে আরাম দেয়।
যদি হিউমিডিফায়ার না থাকে, তবে ঘরে পানিভর্তি একটি বাটি রাখলেও কাজ হয়।
৭️⃣ গরম সেঁক বা তেল মালিশ: আরাম ও ভালো ঘুম
সরিষার তেল বা নারকেল তেল হালকা গরম করে বাচ্চার বুক, পিঠ এবং পায়ের পাতায় মালিশ দিলে কাশি অনেকটাই কমে যায়।
গরম সেঁক বাচ্চাকে আরাম দেয় এবং রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে।
🛑 কখন অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন?
ঘরোয়া উপায় ভালো কাজ করলেও কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি:
-
জ্বর ২ দিনের বেশি থাকে
-
শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা হাঁপানোর মতো শব্দ হয়
-
খুব বেশি কাশি বা বুকে শোঁ শোঁ শব্দ
-
বাচ্চা খেতে চাইছে না বা খুব দুর্বল
-
বুক ঢুকে শ্বাস নিচ্ছে
এসব লক্ষণ দেখলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।
📌 শেষ কথা
বাচ্চার কাশি ও সর্দি সাধারণ সমস্যা হলেও সঠিক যত্ন নিলে দ্রুতই আরোগ্য হয়। ঘরোয়া উপায়গুলো নিরাপদ এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে উপসর্গ যদি বাড়তে থাকে বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
Leave a comment